প্রকাশের অনুভূতি
সবার আগে সবাইকে আগাম নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই। এরপর একটা কথা বলি—‘অহংকারী মৃতদেহ-পত্নী’ উপন্যাসটি এবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। প্রকাশের পর প্রতিদিন তিনটি অধ্যায় প্রকাশিত হবে, যদিও বেশিরভাগ সময় চারটি অধ্যায়ও আসতে পারে। সময়টা আনুমানিক, কারণ মানুষ তো আর ঘড়ি নয়।
প্রতিদিন দুপুর দুইটা, বিকেল পাঁচটা আর রাত নয়টায় অধ্যায়গুলো আপলোড হবে।
হয়তো অনেকেই ভাবছেন—এই লেখক কি মাঝপথে উপন্যাস বন্ধ করে দেবেন? আমি একেবারে স্পষ্টভাবে বলতে পারি—তা হবে না।
আমি লাখ লাখ শব্দের উপন্যাস লিখেছি, তরুণ বয়সে ধৈর্য কম ছিল, মাঝেমধ্যে লেখা ফেলে দিতাম। এখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধৈর্যও বেড়েছে। তবে উপন্যাসের পরিমাণ ৭ লাখ থেকে ৩০ লাখ শব্দের মধ্যে থাকবে। ফলাফল ভালো হলে একটু বেশি লিখব, খারাপ হলে কম, কিন্তু গল্পটি সম্পূর্ণ হবে—এটাই কথা।
এগুলোই প্রকাশের পর উপন্যাসটি নিয়ে আমার পরিকল্পনা। যদিও সবই মোটামুটি আন্দাজ, তবুও জীবন তো এমনই—পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলে না। এখন একটু নিজের কথা বলি।
প্রথমে ভাবছিলাম, সিনিয়র লেখকদের মতো একটু দুঃখের গল্প বলি, কিন্তু শেষে ভাবলাম, নতুন বছরের সময় পাঠকদের সামনে এক গরীব লেখকের কান্না শুনিয়ে মন খারাপ করার দরকার কী! তাই বছরের বড়দিনে শুকনো রুটি খাওয়ার কথাটা আর বললাম না।
নতুন বছরে উপন্যাস শুরু করাটা পুরনো লেখকদের কাছে এক বিরাট নিষেধ, আমি নিজেও সেটা জানি। তবুও এক প্রবীণ বলেছিলেন—‘নতুন বছরটা যদি টাকা ছাড়া কাটাতে হয়, তার চেয়ে বরং লিখেই সময় কাটানো ভালো।’ কথাটা মনে ধরেছিল, তাই শুরু করলাম।
এই উপন্যাসের নায়ক লি ফান বয়সের তুলনায় অনেক পরিপক্ব ও বিচক্ষণ। নায়কের ভাগ্যগুণ তো আছেই, কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, সে তার দ্বিতীয় চাচার কথা মেনে চলে—যেকোনো ব্যাপারে তিনবার চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়। পুরো গল্পে আমি মূলত একজন মানুষের বিকাশ, পরিপক্বতা দেখাতে চেয়েছি—যে কোনো শক্তিশালী মানুষ একদিন দুর্বল ছিল, শর্টকাট কোনো পথ নেই।
লি ফান তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য একটু সুবিধা পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাও সে এক লাফে শিখরে উঠতে পারে না। পরে ‘বেগুনি আভা পরী’র সঙ্গে তার সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা আগামীর অধ্যায়েই জানা যাবে।
‘অনন্ত জীবন কফিন’-এ কত গোপন রহস্য লুকানো আছে?
আমাদের নায়িকা কি পারবে ‘ছোট রাজা’কে সাতরঙা মেঘের ওপর চড়ে তার কাছে আসতে দেখে বিয়ে করতে, নিজের পছন্দের মানুষের সন্ধান পেতে?
‘ছোট রাজা’ সামনে কেমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে? সে কি শেষ পর্যন্ত যেতে পারবে?
আমাদের সেই বেগুনি আভা পরী আসলে কে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের ছোট রাজা কি চিরকাল বেগুনি আভা পরীর কাছে ‘নির্যাতিত’ হবে? যারা আমার লেখার ধরণ জানেন, তারা হয়তো এই প্রশ্নটা নিয়েই ভাবছেন।
গল্পটা অনেক বড়, সবকিছু এখানে বলা সম্ভব নয়। আগামীর কাহিনি জানতে হলে, পরবর্তী অধ্যায়গুলো পড়ুন।