ফিরে আসা

অদ্ভুত শিকারির শিকার পতঙ্গের কক্ষের কাঁকড়া জাও লালা 5240শব্দ 2026-03-19 10:49:37

ঝটিতি আক্রমণ! আঘাত আসন্ন বুঝতে পেরে, মাটিতে পড়ে থাকা বিষাক্ত রাক্ষসী পাখিটি, চোখ বন্ধ করেও তার চোখের পাতায় সামান্য কাঁপুনি দেখা গেল। তবুও সে নড়ল না। ছুরি ধারালো ভোঁতা মাথার পাশে শক্তভাবে গিয়ে বিঁধে গেল। শক্ত হাড়ে ঠেকতেই, লি ল্য এক ঝটকায় ছুরি টেনে বের করল, শরীর আধেক ঘুরিয়ে নিল। মাটিতে দুই পা স্থিরভাবে পড়তেই, সে লাঠি উঁচিয়ে জোরে আঘাত করল।

পাখির মাথার মুকুটের দণ্ডাকার অঙ্গটি চূর্ণ হয়ে ফেটে গেল। তবুও বিষাক্ত পাখিটি মাথা কাত করে পড়ে রইল, নড়ল না। ‘‘মরে গেছে নাকি?’’ লি ল্য সন্দিহান হয়ে ওঠার ঠিক তখনই পেছন থেকে ভারী বর্মে ঢাকা পোকা-গাড়ির গম্ভীর শব্দ ভেসে এল।

‘‘ঠিক আছে, মরুক কিংবা বাঁচুক, কিছুক্ষণ পরে সত্যিটাই বেরিয়ে আসবে।’’ লি ল্য লাঠি সামনে ধরে বিষাক্ত পাখির মাথার দিকে চিহ্নিত গুলি ছুড়ল। এক টুকরো পোকা-তন্তু রক্তাক্ত ক্ষতের ওপর গিয়ে লেগে রইল। সে তন্তু ফিরিয়ে টেনে, আধেক ঘুরিয়ে আবার ছুড়ল।

‘‘সিসি! গাড়ি দিয়ে লাফাও!’’ লাল এসেন্স ঢালতে ঢালতে, সে লাঠিতে ভর দিয়ে লাফ দিল, পেছনের দিক থেকে তন্তু টেনে ধরল। শূন্যে দুইবার পাক খেয়ে, গাড়ির ছাদে নেমে আবার লাফ দিল।

এতক্ষণে উচ্চতা প্রায় গুহার ছাদ ছুঁয়ে ফেলেছে। মাটির কাঁপুনি টের পেয়ে, বিষাক্ত পাখি হঠাৎ চিৎকার করে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। এক ঝাঁপ দিয়ে গাড়ির পায়ে পিষ্ট হওয়া এড়াল। ঠিক তখনই ওপরে থেকে তীক্ষ্ণ কিছু একটা তার পিঠে এসে গেঁথে গেল।

লি ল্য এবার আর লাফিয়ে পালাল না, উল্টে দুই হাতে লাঠি শক্ত করে চেপে ধরে, যতটা সম্ভব গভীরে ঢুকিয়ে দিল। লাঠি স্থির রেখে, আধেক বসা ভঙ্গিতে শরীর নিচু করল, এক হাত দিয়ে লাঠি আঁকড়ে ধরল। ফাঁকা হাতে কোমরের পেছনে হাত দিল।

শিকারীর ছোট ছুরি বেরিয়ে এল।

‘‘হ্যাঁ! হ্যাঁ!’’ চামড়ার ফাঁক গলিয়ে লি ল্য ছুরি বসিয়ে দিল। রক্ত রাবারের মতো চামড়ার ভাঁজ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল।

বিষাক্ত পাখি গর্জন করতে করতে এদিক-ওদিক ঘুরতে লাগল, পিঠের ওপর থেকে লি ল্য-কে ফেলে দিতে চাইছে। কিন্তু সে শুধু ছুরিকাঘাতের গতি কমিয়ে, নিজের ভারসাম্য বজায় রাখল।

পাখি অসমতল গুহার দেয়াল দেখে নতুন কৌশলে পালাতে চাইলে, আবারও ভারী পদধ্বনি কাছে আসে। এবার সে আর পিঠের যন্ত্রণা সহ্য না করে দৌড়ে পালাতে চাইল।

একটু পরেই রক্ত ফোয়ারা হয়ে ছিটকে বেরিয়ে এল। ধারালো ছুরি ক্রমশ গভীরে ঢুকছে, যেন কোনো প্রাণসংযোগস্থলে আঘাত লেগেছে। বিষাক্ত পাখির শরীর সামনে ঝুঁকে পড়তেই, লি ল্য ছুরি ফেলে দিল।

চোখে লেগে থাকা রক্ত মুছল, উঠে লাঠি টানল। লাঠির ধার আলগা হয়ে বেরিয়ে এল। বিষাক্ত পাখি আর সহ্য করতে পারল না, ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে সামনে ঘষটে গেল।

লি ল্য লাঠি গুটিয়ে দৌড়ে কাছে গিয়ে, লাফিয়ে মাথায় লাঠি দিয়ে প্রবল আঘাত করল। ছুরির ধার মাথার সাদা হাড় ফুটো করে বের করে দিল।

‘‘আহা!’’ ঘূর্ণায়মান আঘাত এরপর এল। হাড়ের ধার নাকের উঁচু অংশে আটকে গিয়ে ফাটল ধরাল। লি ল্য-র শরীর জড়িয়ে গেল, কিন্তু লাল এসেন্সের উত্তেজনায় সে পিছু হটল না।

বরং চিৎকার করে সর্বশক্তি দিয়ে লাঠি ঘোরাল। এই সময়ে তার বাহুর পেশি ফুলে উঠল। ধারালো ছুরি সাদা রেখা টেনে নাকের মাথা ফাটিয়ে দিল। বিষাক্ত পাখি ব্যথায় কাতর হয়ে পেছনে গিয়ে গড়িয়ে পড়ল। ওঠার আগেই দুই ভারী পোকা-পা গিয়ে তার গায়ে পড়ল।

প্রতিটা আঘাতে বিষাক্ত পাখির শরীর একটু একটু নিচে দেবে যেতে লাগল। সিসি থেমে গেলে, পাখির অর্ধেক শরীর মাটিতে ঢুকে গেছে।

‘‘এবার সত্যিই মরেছে তো?’’ সাবধানে কাছে এসে কার্লো জানতে চাইল। সিসি-ও যেন সন্দিহান, পোকা-পা তুলে পাখির মাথার দিকে তাকাল।

‘‘চিন্তা করোনা সিসি, বিষাক্ত পাখি এমন আঘাত সহ্য করতে পারে না।’’

লি ল্য-র কথা শুনে, পোকা-পা সরে গেল পাশ থেকে। এরপর শুরু হল উপকরণ সংগ্রহের পালা।

সিসি গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে, রাবার লাঠির মতো লেজ আর পায়ের নখ পরীক্ষা করল। শেষে তার মনোযোগ পুরোপুরি সাদা মুকুটে গিয়ে ঠেকল। সিসি এই আলো-উৎপাদনকারী অঙ্গটি নিয়ে বেশ উৎসাহী।

‘‘ঝলমলে আলো-জ্বলা গাড়ি ভালোই, কিন্তু তুমি নিজেও তো তখন প্রভাবিত হবে।’’

লি ল্য বুঝতে পেরে সতর্ক করল। সিসি, উপরে ওঠানো পোকা-পা নামিয়ে আনল।

‘‘গাড়ির ছাদ ঢেকে রাখলে আলো আটকানো যায় ঠিকই, কিন্তু বাইরে দেখার অসুবিধা হবে, তাই ঠিক সময়ে আলো ফোটানো কঠিন। তার চেয়ে সহজ উপায়ও আছে।’’

লি ল্য কথা শেষ করে, পোকা-ফাঁদে ঘুরে বেড়ানো উজ্জ্বল হলুদ আলোক-পোকার দিকে তাকাল।

সিসি সেটাই বুঝে দ্রুত পোকাদের দিকে এগিয়ে গেল।

‘‘কার্লো, পেছন ফিরে দাঁড়া।’’

‘‘হ্যাঁ... ঠিক আছে।’’

কার্লো কিছু না বুঝেই ঘুরে দাঁড়াল। একের পর এক ঝলকানি গুহার ভেতর ফুটে উঠল। এক মানুষ আর এক বিড়াল পেছনে ফিরে দেখল, সিসি মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে দুলছে।

‘‘তুমি তো অনেক অভিজ্ঞ, নিশ্চয়ই আলোক-বোমা বানাতে গিয়ে ভুলে... আচ্ছা, কিছু না বললেই ভালো।’’

লি ল্য ঠোঁট বাঁকালে, কার্লো আর কিছু বলল না।

অনেক আলোচনা করেও, এক মানুষ আর এক বিড়াল উপকরণ কাটেনি। কারণ তাদের পোশাকে বিষাক্ত পাখির উপাদানের দরকার ছিল না। যদিও বিষাক্ত নিঃসরণ আর বিষথলি দামী উপাদান, কিন্তু জাহাজের সংস্কার এখনো শেষ হয়নি, তাই চাইলেও সাবধানে কাজ করতে হবে। নইলে ভুলে গেলে পরে আবার শিকার করতে আসতে হবে।

পরবর্তী কাজ, শিকার ক্ষেত্র পরিষ্কার করা। যেমন ফাঁদ গর্ত ভরাট, নাকি সতর্ক চিহ্ন বসানো। বিষাক্ত পাখির মৃতদেহ চন্দ্রলোকে ঝুলিয়ে, কুঁজো গাড়ি কাঁপাতে কাঁপাতে লৌহ গ্রামে ফিরল।

কমলা-লাল আগুনের আলোয় ছোট ছোট কাঠের বালতি আর বাক্স সাজিয়ে, অনেক বিড়াল বসে আছে। সামনের গাড়ি ভাগে জেমা, হাতে কাঠি ধরে বোর্ডে লেখা বিশ্লেষণ করছে।

‘‘সাধারণত, যত উচ্চতর মানের উপাদান, তার বৈশিষ্ট্য ও শক্তি তত বেশি, আমাদের প্রক্রিয়াকরণে তখন...’’

এই সময় গম্ভীর পদধ্বনি শুনে, জেমা থমকে গেল।

‘‘হয়তো লি ল্য আর সিসি ফিরে এসেছে... না, শব্দটা অদ্ভুত!’’

জেমার মুখে উদ্বেগ ফুটে উঠল, সে সবার সঙ্গে গ্রাম ফটকে ছুটল। পুরো দল নিরাপদে ফিরে এসেছে দেখে স্বস্তি পেল।

‘‘লি ল্য! সংযোগাংশ কেমন কাজ করল?’’

দূর থেকেই জেমা জানতে চাইল।

‘‘দারুণ! কেবল পোকা-পা-র খোলস বেশি চাপ নিয়েছে, কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত, তবে এটা সমস্যা নয়!’’

কারণ গাড়ির প্রকৌশল দল আছে, খোলস যেকোনো সময় বদলানো যায়।

গ্রাম ফটকে, কার্লো সিসিকে পথ দেখিয়ে পাখির মৃতদেহ নামিয়ে রাখল। লি ল্য চালকের আসন থেকে লাফিয়ে নামল।

‘‘জেমা, ফিরতে দেখলাম অনেক খনি-গাড়ি আসা-যাওয়া করছে, খনন আবার শুরু হয়েছে?’’

‘‘হ্যাঁ, অভিযাত্রী দলনেতা ডিস দারুণ কাজ করেছে, সে একাই ভয়ঙ্কর ব্যাঙ শিকার করেছে, এখন সবাই নিশ্চিন্তে খনিতে যেতে পারছে।’’

জেমা প্রশংসা করল।

‘‘এটা তো ডিস-ই পারে, আমি ওকে অনেক আগে থেকেই ভরসা করি।’’

লি ল্য বলল।

‘‘সে কোথায়?’’

‘‘গ্রামে খুঁজে বের হয়েছে লাভা প্রবাহ আটকানোর কারণ, ডিস ঠিক করেছে গ্রামকে আবার সাহায্য করবে, তাই একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার শিকারে বেরিয়ে গেছে।’’

এ কথায় জেমা একটু চিন্তিত দেখাল। মনে হচ্ছে এবার শিকার খুব বিপজ্জনক।

‘‘মনে হয় না জালপোকা... তবে কি ওটা বড় ছায়াপোকা?’’

লি ল্য ভাবল।

‘‘এটা জানলে তুমি?’’

‘‘এখন গুহায় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছায়াপোকা, এত বড় ঝামেলা কেবল ওটাই করতে পারে।’’

‘‘দারুণ অনুমান, শুনেছি জালপোকার বাসার জন্যই লাভা প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।’’

‘‘না জানি পারবে কিনা... তবে ভয় নেই, ওটা তো ডিস।’’

লি ল্য মাথা ঝাঁকিয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করল।

‘‘এবার আর চিন্তা নেই?’’ জেমা বিস্মিত।

‘‘ডিস সাধারণ শিকারি নয়... আর শিক্ষাদান কেমন চলছে?’’

‘‘ভালোই, বলা যায়, এত উৎসাহী এলুদের দল আমি আগে দেখিনি, সবাই খুব মনোযোগী, যেন বিশেষ কোনো শিক্ষা পেয়েছে, প্রকৌশল দলে না ঢুকলে সবাই ওদের রেখে শিষ্য বানাতে চাইত।’’

‘‘ওহ?’’

লি ল্য ভাবল, নিজের ছোট পাঠশালার এমন উপকার হবে ভাবেনি।

‘‘বিড়ালরা এত শিক্ষানুরাগী বলে আমি নিশ্চিন্ত।’’

‘‘উঁ...’’

জেমা আঙুল গুনতে গুনতে কিছু বলা ছাড়ল।

‘‘বোধহয় এখন পারিশ্রমিকের সময় এসে গেছে?’’

‘‘হুম, আসলে খুব তাড়াতাড়ি দরকার নেই, গ্রামের অবস্থা একটু খারাপ...’’

জেমা বলল, পুঁটলি খুলে দেখাল।

‘‘পোস্টম্যান বিড়াল সম্প্রতি এসেছিল?’’

‘‘হ্যাঁ, সকালে এসেছিল।’’

‘‘একটু অপেক্ষা করো, আমি পোস্ট অফিসে যাচ্ছি।’’

সারা কিছু পাঠিয়েছে কি না, এখন সব ওর ওপর নির্ভর।

পোস্টে খোঁজ নিতেই জানা গেল, পূর্ব দোরুমা থেকে একটি পার্সেল এসেছে, প্রাপক লৌহগ্রাম শিকারি-পোকা গবেষণা শাখার প্রধান লি ল্য।

হালকা ঝাঁকাতে ‘‘ঝনঝন’’ করে জেড মুদ্রা বাজল। লি ল্য খোলস খুলল। ভেতরে একটি বড় অর্থের থলি, সঙ্গে একটি চিঠি।

প্রিয় তিন-তারকা শিকারি, ডানাওয়ালা পোকা-লাঠির অধিকারী ছাত্র, পূর্ব দোরুমা ব্যবসায়ী সংস্থার সমর্থিত, দুই শাখার প্রধান, লি ল্য।

অনেকদিন দেখা হয়নি, আমিও তোমাকে মিস করি।

একটি খারাপ খবর, গিল্ড বাড়তি বাজেট অনুমোদন করেনি। থলিতে থাকা ৫০,০০০ জেড আমার ব্যক্তিগত সঞ্চয়। অনেকদিন ধরে জমিয়েছি, খুব একটা গুরুত্ব দিইনি।

...

চিঠির পাতায় ছোপ ছোপ ভেজা দাগ?

নিশ্চয়ই সারা প্রধান আমাকে খুব মিস করেছে, আনন্দে চোখে জল এসেছে।

লি ল্য-র গলা বুজে এল।

...

এই অর্থ ভালোভাবে কাজে লাগিও, অপচয় করোনা।

গিগান্ট পোকা-গন্ধ নিয়ে গবেষণায় কেন্দ্র অনেক অগ্রগতি করেছে। যেমন তরল হলে প্রবল ক্ষয়কর হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, দীর্ঘদিন গন্ধে বেড়ে ওঠা শিকারি-পোকা, বিশেষ করে বিশুদ্ধ এসেন্সের প্রতি সংবেদনশীল।

যুদ্ধে নিজের শরীরে অতিরিক্ত এসেন্স ঢেলে স্বশক্তি বাড়িয়ে নিতে পারে।

পোকাদের শক্তি অনেক বেড়ে গেছে।

দুঃখজনক, সংগ্রহের প্রবণতা এত প্রবল, চিহ্নিত গুলি দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, এখনও সমাধান মেলেনি।

আরো একটা চিন্তা এসেছে, অন্যান্য প্রাণীও কি দীর্ঘদিন গন্ধে থাকলে অস্বাভাবিক আচরণ করবে?

...

লি ল্য পড়ে বুঝল, গবেষণা কেন থেমে গেছে।

পোকারা দীর্ঘদিন গন্ধে থেকে প্রচুর এসেন্স শোষণ করলে শক্তি বাড়ে ঠিকই, তবে শুরু থেকেই বৈশিষ্ট্য অনুসারে খাবার দেওয়া হয়—শক্তি-সহিষ্ণু, শক্তি-দ্রুতগতি ইত্যাদি, সাধারণত দুই ধরনের প্রবণতা মিলে যায়।

কিন্তু যদি এসেন্সের চাহিদা খুব বেশি হয়, তাহলে শিকারি-কাঠি ব্যবহারকারী শিকারি যখন সহায়তা চায়, পোকা শুধু নিজের উপকারি দুই ধরনের এসেন্স নেবে।

চিহ্নিত গুলি দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, শিকারি তিন ধরনের এসেন্স সংগ্রহ করতে পারবে না। সাধারণ পোকা যতই শক্তি পাক, শিকারির সঙ্গে পার্থক্য থেকেই যাবে।

এই সমস্যা সমাধান হলে, নতুন শক্তিশালী পোকা আসতে খুব দেরি থাকবে না।

...

ঘরের বাইরে, শিকারি-কাঠির মান ক্ষুন্ন করোনা। বিপদে পড়লে বাড়াবাড়ি সাহস দেখাবি না।

নিজের যত্ন নিস, লি ল্য।

‘‘প্রধান, আমি তোমার মুখ উজ্জ্বল করব।’’

লি ল্য এ কথা বলে সঙ্গে সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি লিখে, পোস্ট অফিসে দিল।

‘‘বেলনার গ্রামের চিঠি এসেছে?’’

‘‘না, দুই গ্রামের দূরত্ব অনেক, পাঠালেও পৌঁছাতে সময় লাগবে।’’

‘‘ওহ, ধন্যবাদ।’’

‘‘শিকারি প্রকৌশল দলে বিড়াল লাগবে না?’’

পোস্টবিড়াল ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল।

‘‘আগেই পূর্ণ হয়েছে।’’

‘‘ওহ, জানিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’’

পোস্টবিড়াল মাথা নিচু করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

গ্রাম ফটকে, লি ল্য-কে গর্বিত ভঙ্গিতে দেখে, জেমা বুঝল তার আত্মবিশ্বাসের উৎস কোথায়।

বিষাক্ত পাখির দেহ কাটাকাটি শেষ হলে, বালু-পোকা নৌকার সংস্কার শুরু হল।

এরপর লি ল্য নৌকা তৈরির প্রশিক্ষণে অংশ নিল। সিসি প্রতিদিন সেলাই মেশিন খুলে-জোড়া দেয়, জাহাজ নির্মাণ দেখে, সঙ্গে আলোক-পোকা নিয়ে গবেষণা করে।

এভাবে দিন যেতে লাগল। পাঁচ দিনের মাথায়, গ্রামের সবার মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল। বিশেষ করে অভিযাত্রী দলের সদস্যরা।

কারণ, অভিযাত্রী ডিস-র কোনো খোঁজ নেই।

ভোরে গ্রাম ফটকে, লি ল্য মেরামত হওয়া গাড়িতে উঠে মানচিত্রে পথ আঁকতে লাগল।

‘‘লি ল্য, তুমি আর সিসি কি শিকারে বেরোচ্ছ?’’

সোফিয়া জানতে চাইল।

‘‘না, খানিকটা খনিজ আনতে যাচ্ছি।’’

‘‘ভাবলাম তুমি ডিস-কে খুঁজতে যাচ্ছ?’’

‘‘এটা... যদি সামনে পড়ি, তখন দেখা যাবে।’’

এই সময়ে শ্রেষ্ঠ দল চারজন গ্রাম ফটকে এসে পৌঁছাল, পথ ঠিক করছে।

‘‘হা হা! সুপ্রভাত সোফিয়া!’’

এডেন এসে হাসিমুখে বলল।

‘‘শ্রেষ্ঠ দল কি...’’

‘‘গুরু আর অপেক্ষা করতে রাজি নন, যেতে চাইলেন...’’

পেছন থেকে কড়া দৃষ্টি পড়তেই, এডেন চুপ করে গেল।

‘‘আমরা শুধু খনিজ তুলতে যাচ্ছি, তাড়াতাড়ি ফিরব।’’

জুলিয়াস এডেনের বদলে সঠিক উত্তর দিল।

অভিযাত্রী প্রধান জোর্ডা তখন গম্ভীর মুখে ফটকে এল।

‘‘এখন আর মান-মর্যাদার প্রশ্ন নয়, অনুগ্রহ করে সবাই তাড়াতাড়ি রওনা দাও, চুক্তিপত্র আমি সোফিয়ার মাধ্যমে পাঠিয়ে দেব।’’

জোর্ডা পরিস্থিতি খোলাসা করতেই, দুই দল প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হল।

ঠিক তখনই, কোনো খনিজবাহী না থাকা একটি গাড়ি দ্রুত গ্রাম ফটকের দিকে এল।

গোটা শরীরে জাল জড়ানো, মুখে হালকা বেগুনি ছোপ, ডিস সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরল।