প্রকাশের অনুভূতি
আগামীকাল রাত বারোটায় বইটি প্রকাশিত হবে।
আমি যখন ইন্টারনেট সাহিত্যের জগতে নতুন, তখন হৃদয়ে সত্যিই উদ্বেগ অনুভব করি।
গত বইটি লেখার সময়, কেউ বলেছিলেন, সুন হাও-এর শাসনে উ-র মানুষের জীবন যেন এক ভয়াবহ চলচ্চিত্র, বাস্তবের নিয়মভিত্তিক কাহিনীর মতো, যা আমাকে অসীম অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। তখনই হঠাৎ মনে হয়েছিল, এই বইটি কীভাবে লেখা উচিত।
আসলে কিছু মাস বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু একদিকে নিজের অস্থিরতা, অন্যদিকে বই লিখে পরিবার চালানোর দায়িত্ব—এই দুইয়ে মিলেই আবার লিখতে বসেছি।
‘উত্তর চীনের অদ্ভুত কাহিনী’—বইয়ের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উভয়েই অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করেছেন, আমি ইতিহাসের পথ ছেড়ে সত্যিকারের রহস্যময় গল্প লিখতে যাচ্ছি... আসলে এখনো ইতিহাসই লিখছি, শুধু আগের লেখার ধরন থেকে একটু ভিন্নভাবে।
বলতে গেলে, আমি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিহাসভিত্তিক বই লিখেছি। যদিও নানা ধরণের চেষ্টা করেছি, শেষ পর্যন্ত সবগুলোতেই কিছুটা মিল খুঁজে পাই; মাঝপথে এসে মনে হয়, বারবার একই গল্প লিখছি... এতে পাঠকের মনও হাঁপিয়ে ওঠে, লেখকেরও উৎসাহ কমে যায়।
তাই এবার চেষ্টা করছি আরও নতুন ও ভিন্নভাবে লিখতে। নিশ্চিত নই, ফলাফল কেমন হবে... বহু তথ্য খুঁজে দেখেছি, যতটা সম্ভব ইতিহাসের দলিল দিয়ে কাহিনী গাঁথার চেষ্টা করেছি। সেই সময়ের সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না, রাগ-অনুতাপ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। মনে করি, এই বইয়ের জন্য যথেষ্ট শ্রম দিয়েছি।
তাই লেখার গতি একটু ধীর। কখনও পুরো দিন বসে শুধু কয়েক হাজার শব্দ লিখি, সংশোধন করি, কিন্তু এতে উৎসাহ হারাইনি; বরং লিখতে লিখতে আরও মুগ্ধ হয়ে যাই। নতুন অধ্যায় বারবার পড়ি, মনে মনে গর্ব অনুভব করি।
নতুন এই শৈলী নিয়ে অবশ্য বিতর্কও আসবে। এখানে খুব কম তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা থাকছে; ইতিহাসের পটভূমি শুধু পটভূমি হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। অধিকাংশ তথ্য সংলাপের মাধ্যমে উঠে আসে, চরিত্র পরিচয়ও মুখ্য নয়—তাদের আচরণ ও কথার মধ্য দিয়েই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান চরিত্রের মনস্তত্ত্বও আমি সরাসরি লিখিনি; শুধু তার বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া দিয়ে প্রকাশ করেছি। মনে হয়েছে, এই ধরন ‘অদ্ভুত কাহিনী’র জন্য উপযুক্ত।
এর ফলে শুরুটা সহজে বোঝা যায় না। দ্রুত পড়লে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, পাঠক বুঝতে পারেন না আমি কী লিখতে চাইছি... চরিত্রের সংখ্যা বেশি, কাহিনীর প্রবাহ জটিল। পাঠক অজানা অন্ধকারে পড়েন, আমি নিজেও কিছুটা সংশোধন করার চেষ্টা করছি।
পাঠকের অনুভূতি যেমনই হোক, আগামীকাল বইটি প্রকাশিত হবে, আমি কিছু সংরক্ষিত অংশও প্রস্তুত রেখেছি—যাতে সবাই একবারে পড়তে পারেন।
আমি মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি—এই বইয়ের সাফল্য হয়তো আমার প্রত্যাশা পূরণ করবে না, বা ‘পিতার বাড়ি’, ‘পোশাক’ বইয়ের মতো সাড়া ফেলবে না। কিন্তু কোনো সমস্যাই নয়—লেখার উৎসাহই সবচেয়ে বড়। আমার হাতে এখনও বহু কাহিনী অপ্রকাশিত, হয়তো পরবর্তীতে সবই প্রকাশ পাবে।
শেষ পর্যন্ত কী হবে, আগামীকালই নির্ধারিত হবে। এই বইয়ের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিক ধন্যবাদ।
আশা করি, আগামীকাল প্রথম সদস্যতা দেবেন, মাসের ভোট দেবেন—তাতে আমারও গর্ব করার সুযোগ হবে।
আর কথা বাড়াবো না, কালকের প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ~~
তোমাদের ভালোবাসি—
পুরাতন নেকড়ে।