অধ্যায় একত্রিশ: দূতকে হত্যা করার চক্রান্ত

উন্নয়নের দৃষ্টি আশেরো 2463শব্দ 2026-02-10 03:04:51

বাই শাওওয়েনের মনে আনন্দের ঢেউ উঠল, মনে মনে বলল, ছোট সাহেব তো এই কথাটারই অপেক্ষায় ছিল!
ইতিমধ্যে মদের দোকানের সেই মারামারির আগেই বাই শাওওয়েন আন্দাজ করেছিল, এই দুই বিদ্রোহী যোদ্ধার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে, নাহলে তারা নিশ্চয়ই চুপচাপ বসে থেকে সেই দুর্বল বার্ডের মতো গীতিকারকে নেতার অবমাননা করতে দেখত না।
পরে কথাবার্তার মাঝেই দুজনেই ব্যাপারটি স্পষ্ট করেছিল। প্রমাণ পাওয়ার পর, বাই শাওওয়েন তখনই কৌশল আঁটতে শুরু করে।
বিদ্রোহী বাহিনীর মর্যাদা বাড়াতে হলে অবশ্যই বড় কোনো কাজে অংশ নিতে হবে, এমন কোনো দায়িত্ব যা শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে পড়ে। তাই প্রথম টাস্ক, অর্থাৎ নিজের আনুগত্য প্রমাণের জন্য, বাই শাওওয়েন প্রাণপণে এক টানে তিনটি সাম্রাজ্যবাদের দুর্গ দখল করে নেয়।
এভাবে, সে অবশেষে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছায়, এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।
তৎক্ষণাৎ, বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে, বাই শাওওয়েন সম্মতি জানায়, ‘‘এটা আমার গৌরব। রালফ, এবার বলো, কাকে সরাতে হবে?’’
রালফ সন্তুষ্টভাবে মাথা নাড়ে, ‘‘আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেয়েছি, উত্তর জেলা থেকে সাম্রাজ্যের দূত আগামীকাল এলু নগরে এসে পৌঁছাবে। আমাদের কাজ হচ্ছে এলু নগরের বাইরে সেই সাম্রাজ্যিক দূতকে হত্যা করা!’’
লোজা বলে, ‘‘দূত যদি এলু নগরের সীমানায় মারা যায়, তাহলে এলু নগরকে সাম্রাজ্যের রোষানলের মুখে পড়তে হবে, যা এলু নগরের শাসক কিছুতেই চাইবে না। তাই এলু নগরের রক্ষীরা অবশ্যই বাধা দেবে। তাই আমাদেরকে দূত ও রক্ষীদের মিলিত হওয়ার আগেই কাজ শেষ করতে হবে!’’
তথ্যবার্তা আসে—
‘‘পার্শ্ব মিশন: নতুন দায়িত্ব শুরু। মিশনের কঠিনতা: এ-।’’
‘‘মিশনের লক্ষ্য: সাম্রাজ্যিক দূত এলিয়টকে হত্যা করা।’’
‘‘সময়সীমা: ৮ ঘণ্টা।’’
‘‘ব্যর্থতার শর্ত: এলিয়ট এলু নগরে ঢুকে পড়লে, অথবা নগরের রক্ষীদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলে।’’
বাই শাওওয়েন মাথা নাড়ে, ‘‘আমি সেই অভিশপ্ত সাম্রাজ্যিক কুকুরটাকে তাদের আলোর মহান নেতার সামনে পাঠাবোই।’’
‘‘‘আমি’ নয়, ‘আমরা’!’’ লোজা হাসতে হাসতে বাই শাওওয়েনের কাঁধে চাপড় দেয়, ‘‘দূতের সঙ্গে প্রায় বিশজন রক্ষী আছে। যদিও তাদের বেশিরভাগই দুর্বল সহকারী সৈনিক, তবু একা সামাল দেওয়া কঠিন।’’
রালফ বলে, ‘‘দূতের দল আজ রাতে সাদা-পাথরের উপত্যকায় শিবির ফেলবে। আমাদের এখনই রওনা দিতে হবে। কাজটা শেষ করতেই হবে। উসোকের মুক্তির জন্য!’’
‘‘উসোকের জন্য!’’ লোজা মুষ্টি উঁচিয়ে ফিসফিস করে, বাই শাওওয়েনও তার দেখাদেখি দাঁত বের করে মুষ্টি তুলে ভয়ংকর মুখ করে নেয়।

...

রাত নেমে এসেছে, সাদা-পাথরের উপত্যকা।
‘‘এই দেখ, দেখতে পাচ্ছ?’’ লোজা ফিসফিস করে বলে।
ছায়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকা রালফ আস্তে মাথা নাড়ে, ‘‘প্রহরা বেশ কড়া, প্রতিটি দিকেই সহকারী সৈনিক মোতায়েন আছে, হঠাৎ আক্রমণ সহজ হবে না।’’
বাই শাওওয়েন আগুনের পাশে বসে থাকা সাম্রাজ্যিক দূতকে লক্ষ করে; সে এক তরুণ অভিজাত, তার চলাফেরায় শৈশব থেকেই শেখা সৌজন্যের ছাপ স্পষ্ট। তবে বাই শাওওয়েনের তীক্ষ্ণ নজরে স্পষ্ট বোঝা যায়, দূত নিজে অত্যন্ত দুর্বল, একেবারে সহকারী সৈনিকদের মতোই।

তবে, দূত এলিয়টের আশেপাশে বসে আছে চারজন সাম্রাজ্যিক নিয়মিত সৈনিক! তাদের মধ্যে দুইজন বিশাল হাতুড়ি-বাহক, একজন ঢাল-পরিধানকারী, আর একজন দক্ষ ধনুর্ধারী।
এই চারজনের প্রত্যেকেই দ্বিতীয় স্তরের যোদ্ধা। কেবল বাই শাওওয়েন একা থাকলে তো যত দূর সম্ভব পালিয়ে যেত।
কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, তার পাশে আছে দুই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, রালফ আর লোজা। লোজা হচ্ছে তৃতীয় স্তরের ঢাল-যোদ্ধা, সে একাই দুজনকে সামলাতে পারবে, রালফ তো আরও শক্তিশালী, একজন চ্যাম্পিয়ন তরবারি-সৈনিক। তারা দুজন মিলে, বাই শাওওয়েনের কোনো সাহায্য ছাড়াই পুরো দলটাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে।
‘‘তবে, আসল সমস্যা এখানেই...’’ বাই শাওওয়েন কপালে ভাঁজ ফেলে।
কারণ, এটা তো এ-স্তরের কঠিন মিশন! আগের পেশা পরিবর্তনের মিশন, ড্রাগন ভাষা শেখার মতোই কঠিন। যদি বাই শাওওয়েন কেবল শক্ত লোকদের ভরসা করে সহজেই পার হয়ে যেতে পারতো, তবে কঠিনতা কখনো সি-র বেশি হতো না, তাহলে একে এ- হিসেবে ধরা হত না কেন?
বাই শাওওয়েন গভীর সন্দেহে পড়ে, সে ভাবতে ভাবতে洞察শক্তি ব্যবহার করে একে একে সব শত্রুর শক্তি যাচাই করতে শুরু করে।
দূত এখনও দুর্বলই, চার সৈনিকেও বিশেষ কিছু নেই। কিন্তু, যখন সে দূতের কাছাকাছি একটি কালো চাদর পরা, এক নজরে সাধারণ মনে হওয়া এক সেবকের দিকে洞察প্রয়োগ করে, তার গা শিউরে ওঠে!
লাইলা রক্তপাতপাতা (প্রতিভাবান/চ্যালেঞ্জ স্তর ৫)
গোত্র: মানব-আকৃতির/পরীজাতি
পেশা: তরবারি-নৃত্যশিল্পী, স্তর ৩
গুণ: শক্তি ১৪, দ্রুততা ২১, সহনশীলতা ১৬, মনোবল ৯
দক্ষতা: ???
‘‘ঠিকই সন্দেহ করেছিলাম!’’ বাই শাওওয়েন মনে মনে দাঁত চেপে ধরে, ভাবেনি যে দূতের সঙ্গেও এমন এক দুর্ধর্ষ পরীজাতি মেয়েও আছে। এই লাইলা রক্তপাতপাতা নামের পরী-কন্যার চ্যালেঞ্জ স্তর পাঁচ, রালফের চেয়ে কম নয়।
বাই শাওওয়েন ভয়ে অবাক হয়ে,洞察বাকিদের ওপর ছড়িয়ে দেয়, নিশ্চিত হয়, বাকি সহকারী সৈনিকদের মধ্যে আর কোনো লুকিয়ে থাকা অতিকায় যোদ্ধা নেই।
তাহলে এখনও ভেঙে পড়িনি, লড়াই করা যাবে।
ওদিকে, রালফ আর লোজা যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, তারা ইশারায় বাই শাওওয়েনকে কাছে ডাকে।
‘‘শত্রুর সংখ্যা বেশি, আমাদের একটা টোপ দরকার, যাতে ওদের কিছুটা মনোযোগ সরে যায়,’’ রালফ বলে, ‘‘বাকি দুজন তখন শিবির ফাঁকা পেয়ে হঠাৎ আক্রমণ চালাতে পারবে, তখন নিশ্চয়ই সেই কাপুরুষ সাম্রাজ্যিক কুকুরটাকে শেষ করা যাবে।’’
‘‘আমি টোপ হবো,’’
এক মুহূর্ত দেরি করে লোজা বলে, ‘‘রালফ আক্রমণের মুখ্য শক্তি, তাকে থেকে যেতে হবে।’’
টোপের কাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক, তাতে বিশেষ কৃতিত্বও নেই, এটি নোংরা ও ক্লান্তিকর কাজ।
রালফ মাথা নেড়ে বলে, ‘‘ভাই, আমি তো তোমার সাথে অনেক দিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছি, তোমার ঢালের পেছনে থাকতেই অভ্যস্ত।’’
এ কথা শুনে, বাই শাওওয়েন আর কিছু বুঝতে বাকি রাখে না রালফের ইঙ্গিত। সে এখনও তার সহজ-সরল চরিত্র ধরে রেখে আস্তে বলে, ‘‘আমি শত্রুকে টেনে আনব। এর চেয়ে উপযুক্ত আর কেউ নেই।’’

লোজা এখনও কিছুটা দ্বিধায়, কিন্তু রালফ দৃঢ়ভাবে মাথা নাড়ে, ‘‘ঠিক আছে ভাই, সব কিছু উত্তর সীমান্তের মুক্তির জন্য!’’
এই কথাতেই লোজার দ্বিধা কেটে যায়।
বাই শাওওয়েন আস্তে বলে, ‘‘আমি একটু প্রস্তুতি নিই, তোমরা আমার সংকেতের অপেক্ষা করো।’’ বলে সে পাহাড়ের বাঁক ঘুরে চুপিচুপি চলে যায়।
রালফ আর লোজা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে থাকে।
দশ মিনিট কেটে যায়।
অর্ধেক ঘণ্টা, তারপর এক ঘণ্টা।
বাই শাওওয়েন আর ফিরে আসে না।
রালফ কপাল ভাঁজ করে বলে, ‘‘বিষয়টা কী হলো? সে কি পালিয়ে গেল?’’
সুউউউ!
ধনুকের শব্দে উপত্যকার প্রহরী এক সহকারী সৈনিক হোঁচট খেয়ে দুই পা পিছিয়ে যায়, বুক চেপে ধরে আর্তনাদ করে ওঠে—
‘‘—শত্রু আক্রমণ!’’
সুউউউ!
আরও একটি তীর সোজা সেই আহত সৈনিকের হৃদয়ে বিদ্ধ হয়, সে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
শিবিরে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত সৈনিককে দেখতে গিয়ে, দূতের দল প্রতিক্রিয়া দেখায়—দুইজন সাম্রাজ্যিক নিয়মিত সৈনিক ও পাঁচজন সহকারী সৈনিক মিলে হামলাকারীর খোঁজে বেরিয়ে পড়ে।
এটা যুক্তিসঙ্গতই। হামলাকারী যে একজন, তার তীর নিক্ষেপের দক্ষতাতেই বোঝা যায় সে অতটা অপ্রতিরোধ্য নয়, দুই সৈনিক আর পাঁচ সহকারী মিললেই সে গোপন আক্রমণকারী ইঁদুরটাকে মেরে ফেলতে পারবে।
তাকে ছেড়ে দিলে, পুরো রাত আর শান্তি নেই।
শিবিরের প্রায় অর্ধেক ফাঁকা দেখে, রালফ জোরে লোজার কাঁধে চাপড় মারে, ‘‘হয়ে গেছে, চল!’’