লেই ফু মৃত্যুর পরেই জানতে পারল, কেন সে কখনোই তার স্বামীর সেই পরকীয়া প্রেমিকা হুয়া ইউয়েতকে পরাজিত করতে পারেনি। আসলে, এই জগতের বাইরে আরেকটি সাধকের জগৎ রয়েছে। হুয়া ইউয়েত সেই সাধকের জগত থেকেই এসেছে। তার দেহে অলৌকিক শক্তি বিদ্যমান, ফলে লেই ফু যতই চেষ্টা করুক না কেন, কোনোভাবেই তাকে হারাতে পারেনি। নির্যাতন, চামড়া ছুড়ে ফেলা, হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো করা—লেই ফু সকলের বিশ্বাস ও ভালোবাসা হারিয়ে, অশেষ যন্ত্রণায় মৃত্যুবরণ করে। এমন অবিচার, সে কীভাবে ক্ষমা করতে পারে? সে মৃত্যুর নদী থেকে উঠে আসে, প্রতিদিন অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটায়, শুধুমাত্র ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায়। কিন্তু স্বর্গের দেবতারা ছিল অপ্রাপ্য, হুয়া ইউয়েত এবং তার সঙ্গী শক্তিশালী মন্দিরের আশ্রয়ে, সাধকদের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, তাদের ভাগ্যে বিশেষ কিছু লেখা ছিল। অথচ লেই ফু, এক তুচ্ছ প্রতারিত আত্মা, কিভাবে স্বর্গে উঠে, ভাগ্যনির্ধারিতদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস করে? এই মুহূর্তে, লেই ফু অবশেষে বুঝতে পারে—এই পৃথিবীর ন্যায়বিচার, সত্য—কখনো অন্যের ওপর নির্ভর করা যায় না। সেই দিন, সে মৃত্যুর নদীতে ফিরে যায়। ওই দিনই, সেই নদীতে বজ্রনিনাদ, প্রতারিত আত্মাদের ফিরে আসা, সারা পৃথিবীর হতাশা উঠে এসে স্বর্গের চূড়ায় পৌঁছায়! স্বর্গের উচ্চতম স্তরে, হাজার বছর আগের সাধকের জগতের ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ পায়—প্রেতাত্মার অধিপতি অবতীর্ণ হবে, সাধকদের জগতে মহাপ্রলয়ের সূচনা হবে! মৃত্যুর নদীর গভীরে, লেই ফু চোখ মেলে ধরে। —দশ হাজার প্রতারিত আত্মা তার পথ খুলে দেয়, তার এক তলোয়ারের ঝলকে ছয়টি পথ আলোকিত হয়। —আজ থেকে, সত্য কেবল তার তলোয়ারের ধারেই নিহিত! #বহুপাত্রের অসাধারণ উপন্যাস #প্রেমের উপাখ্যানও আছে