প্রাচীন সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়া ধনভাণ্ডার, রহস্যময় ও দুর্লভ পুরাতন সমাধি—এইসব উপাদানের চেয়ে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো আর কিছু নেই। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গড়ে উঠছে এক নতুন “প্রাচীন সমাধি অর্থনীতি”। আমেরিকার বাণিজ্যিক সুপারহিট ছবি ‘ডাকাতির রহস্যপুরী’ ও ‘রহস্যময় ধন অনুসন্ধানী’, ক্লাসিক ভিডিও গেম ‘সমাধি অভিযাত্রী’—সবগুলোই বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করেছে। এইসব কাল্পনিক “পুরাতন সমাধি” মানুষকে আরামদায়ক সিনেমা হল কিংবা ঘরের মধ্যে বসেই চলচ্চিত্র বা গেমের নায়কের সঙ্গে শিহরণ জাগানো, উত্তাল ও সুদূরপ্রসারী দুঃসাহসিক অভিযানে নিয়ে যায়, দেয় এক অদ্বিতীয় উত্তেজনার স্বাদ। ‘প্রেতবায়ুর ধ্বনি’ (একজন সমাধি অভিযাত্রীর অভিজ্ঞতা) এমনই এক ধারাবাহিক রোমাঞ্চকর সাহিত্যের কাহিনি, যেখানে তিনজন আধুনিক গুপ্তধন সন্ধানকারী, ফেংশুইয়ের গোপন কলা ব্যবহার করে, দেশের পাহাড়-নদীর রহস্য উন্মোচন করে, খুঁজে ফেরে মাটির বুকে হারিয়ে যাওয়া অগণিত ড্রাগনের প্রাসাদ ও ধনভাণ্ডার। মরুভূমি, বরফাচ্ছাদিত পাহাড়, অরণ্য, গিরিখাত, স্রোতস্বিনী, তৃণভূমি, অজানা রহস্যময় প্রাণী ও উদ্ভিদ, সর্বত্র লুকিয়ে থাকা বিপজ্জনক ফাঁদ—প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে শিহরণ, একের পর এক রহস্যের জট খুলে যায়, সীমা ও কল্পনাশক্তিকে অতিক্রম করে তারা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। অদ্ভুত ও রহস্যময় সেই পাতালের জগতে উন্মোচিত হয় প্রাচীন ইতিহাসের স্তর-উপর-স্তর আবরণ। গল্পটি শুরু হয় নায়কের পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এক খণ্ডিত গোপন পাণ্ডুলিপিকে কেন্দ্র করে। সে পাণ্ডুলিপি অনুসরণ করে তারা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ড্রাগনের অনুসন্ধানে নামে, অগণিত বিপদ ও বাধা অতিক্রম করে। কেননা এইসব ড্রাগনের ন্যায় গোপন ও মহত্তর কর্মকাণ্ড, আকাশ ছোঁয়া, ভূমি বিদীর্ণ, সাগর উল্টানোর মতো অসাধারণ কীর্তিগুলো সাধারণের চেয়ে ভিন্ন। কুনলুন পর্বতের বিশাল হিমবাহের নিচে থাকা নয়তলা ভূতের অট্টালিকা, চীন-মঙ্গোলিয়া সীমান্তের অরণ্যঘেরা গিরিখাতে লুকিয়ে থাকা গোপন সামরিক ঘাঁটি, টাকলামাকান মরুভূমির কৃষ্ণ বালির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন নগরী, রহস্যময় পাহাড়ের অতল গহ্বরে মরদেহের সুবাসিত অর্কিড, ইউনানের অরণ্যে পতঙ্গ-বেষ্টিত অভিশপ্ত কফিন, তিব্বতের কারাকোরাম পর্বতে প্রাচীন গুগে সাম্রাজ্যের করোটিবিহীন গুহা, শানশির ড্রাগন-শিখর গোলকধাঁধার গুহা—সবই তাদের অভিযানের অংশ। বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ‘হলুদ নদীর ড্রাগন-শিখরের অধ্যায়’।